আজ বিশ্বকাপ ফাইনাল, ফরাসি বিপ্লব নাকি ক্রোট বিষ্ময়! জবাব মস্কোয়

Updated: 15 July 2018 08:31 IST

2006 বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির বিরুদ্ধে জিদানের ফ্রান্স ছিল হট ফেভারিট। কিন্তু সেদিন জিদানরা হেরে গিয়েছিলেন।  

Get Set Final France Vs Croatia
এবার বিশ্বকাপ কার হাতে?

আজ বিশ্বকাপ ফাইনাল, ফরাসি বিপ্লব নাকি ক্রোট বিষ্ময়! জবাব মস্কোয়

আইফেল টাওয়ারটা আরও উঁচু দেখাবে কী? হয়তো। 42 লক্ষের ছোট্ট দেশটাই কী দুনিয়ার সবচেয়ে চর্চিত দেশ হয়ে যাবে? হয়তো। আজ, রবিবার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালের পর এই দুটো প্রশ্নের যে কোনও একটা দারুণভাবে মনে হতে পারে। আসলে ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া যারাই বিশ্বকাপ জিতুক এই প্রশ্ন দুটোর যে কোনও একটা উঠতে বাধ্য। ফাইনাল ম্যাচের পরই জানা যাবে দ্বিতীয়বার না প্রথমবার। আগে একটা সময় ছিল যখন ফরাসি ফুটবলকে নিয়ে একটা ঠাট্টা চলত। জাঁ ফতে থেকে প্লাতিনি। বিশ্ব ফুটবলে নানা সময়ে মহাতারকার জন্ম দিয়েছে ফ্রান্স। কিন্তু বিশ্বকাপে জেতা তো দূরে থাকা কখনও ফাইনালেও উঠতে না পারায় ফরাসি ফুটবল নিয়ে ঠাট্টা চলত। ''কতবার যে জার্মানরা আইফেল টাওয়ারের তলায় কলার তুলে বলে গিয়েছেন, তোদের এই টাওয়ারটা ঢেকে যাবে আমাদের বিশ্বকাপের ট্রফিতে।'' গুণে গুণে সেসব শোধ করার দিন হতে পারে মস্কোয় ফাইনালটা জিতে। রাশিয়ায় ফরাসি বিপ্লবের আশায় বুক বেঁধেছে গোটা ফ্রান্স।

জিদান দেশকে বিশ্বকাপ জিততে শিখিয়েছেন, গ্রিজম্যানরা বিশ্বকে বোঝাবেন ফরাসি-রা আসলে ফুটবলের জাত। ক্রোটদের হারাতেই পারলেই আইফেল টাওয়ারের উচ্চতা আরও বাড়বে ফরাসিদের বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ানোতে। এমনিতেই দুনিয়ায় পর্যটকদের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হল শিল্পীর শহর প্যারিস। এবার থেকে সেই শিল্পীর শহর হয়ে যাবে ফুটবলের শহর। বিশ্বকাপ জেতার সংখ্যায় আর্জেন্টিনা, উরুগুয়েকে ধরে ফেলবে ফ্রান্স। তবে ফরাসিদের একটাই ভয় বড় টুর্নামেন্টে ফাইনালে হারের রেকর্ড। 2006 বিশ্বকাপের ফাইনালে জিদানের গুঁতো কাণ্ডের পর টাইব্রেকারে হেরেছিলেন ইতালির কাছে। তারপর দু বছর আগে ইউরো কাপে নিজেদের দেশের মাটিতে ফাইনালে হট ফেভারিট ফ্রান্স হেরেছিল রোনাল্ডোর পর্তুগালের কাছে। সেদিন ফাইনালে হারের পর ড্রেসিংরুমে কোচ দেশঁ বলেছিলেন, ''এবার রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে আমাদের এই হারের জ্বালাটা মিটিয়ে নিতে হবে।''1998 বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের অধিনায়ক তথা বর্তমান কোচ দেশঁ-র কথা রেখে ফাইনালে উঠেছেন গ্রিজম্যানরা, এবার ফরাসিদের লক্ষ্য শেষ হার্ডল টপকানো। যেটা বেশ কয়েক বছর ধরে তাদের অধরা। ফেভারিট হিসেবে নামলেও ফরাসিরা জানেন ক্রোয়েশিয়া ঠিক কতটা কঠিন দল। নক আউটে অপ্রতিরোধ্য দেখাচ্ছে গ্রিজম্যান-এমবাপে-পোগবাদের। আসলে একটা ছবিতে যখন অনেক হিরো থাকে, তখন সিনেমায় ভিলেনদের কাজটা কঠিন হয়ে যায়। কাকে সামলাবো, কাকে সামলাবো ভাবতে ভাবতে ম্যাচ পিছলে যায়। যেটা প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে মেসিরা, কোয়ার্টার ফাইনালে সুয়ারেজরাল টের পেয়েছিলেন। পরিসংখ্যান থেকে খাতায় কলমে ফাইনালে সবতেই ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে এগিয়ে ফ্রান্স। তবে বিশ্বকাপ ফাইনালে সব সময় ফেভারিটরা জেতেন না সেটা সবচেয়ে ভাল জানেন ফরাসিরাই। 1998 বিশ্বকাপের ফাইনালে রোনাল্ডো-রিভাল্ডোর ব্রাজিল ছিল ফেভারিট, কিন্তু জিদানরা সেদিন 3-0 গোলে উড়িয়ে দেশকে প্রথমবার বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন। আবার 2006 বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির বিরুদ্ধে জিদানের ফ্রান্স ছিল হট ফেভারিট। কিন্তু সেদিন জিদানরা হেরে গিয়েছিলেন।  

অন্যদিকে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে নবম দেশ হিসেব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি ক্রোয়েশিয়ার সামনে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে যে ক্রোয়েশিয়া ফাইনালে খেলবে বললে, অনেকে ভিরমি খেতেন। খাবেন নাই বা কেন। রাশিয়ায় আসার সময় ক্রোটরা ছিলেন ফিফা ক্রম তালিকায় 20 নম্বরে। ক্রম তালিকায় এত পিছনে থেকে এর আগে কোনও দেশ কখনও বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেনি। তার ওপর আবার দেশটার জনসংখ্যা মাত্র 42 লক্ষ। আমাদের কলকাতার জনসংখ্যাও সরকারী হিসেবে ক্রোয়েশিয়ার চেয়ে লাখ চারেক বেশি হবে। এত কম জনসংখ্যার দেশ আবার বিশ্বকাপ জেতে নাকি! আসলে সবদিক থেকেই ক্রোয়েশিয়ার ফাইনালে ওঠাটা অবিশ্বাসের। আর অবিশ্বাস্য করেছেন বলেই ক্রোটরা এখন দুনিয়ার অষ্টম বিষ্ময় হয়ে গিয়েছেন।  

গতবার ব্রাজিল বিশ্বকাপে গ্রুপ লিগে বিদায় নেওয়া ক্রোটরা রাশিয়ায় সব পরীক্ষায় সফল হয়েই ফাইনালে উঠেছেন। গ্রুপ পর্বে মেসিদের 3-0 গোলে হারানো থেকে, নক আউটে পরপর দুটি ম্যাচে টাইব্রেকারে জয়, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক্সট্রা টাইমে জয়। ক্রোটরা যাতে হাত দিচ্ছেন সেটাই সোনা ফলছে। তবে ক্রোটদের নিয়ে একটাই চিন্তা তারা ফ্রান্সের থেকে 90 মিনিট বেশি খেলে বিশ্বকাপ খেলতে নামছে। কারণ মদরিচরা পরপর তিনটি নক আউট ম্যাচ 120 মিনিটের খেলেছেন। যেখানে ফরাসিরা নক আউটে তিনটি ম্যাচই নির্ধারিত সময়ে জিতেছেন। তাই ক্রোটদের ক্লান্তি ফ্যাক্টরটাই বড় হয়ে দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ফুটবল বিশ্ব। যেটা নিয়ে অবশ্য ফাইনালের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে এসে ক্রোয়েশিয়ার কোচ জালটকো দালিচ বলেন, জিতলে ক্লান্তি আসে না। 120 মিনিট কেন জিতলে 200 মিনিট খেললে ক্লান্তি আসে না। আবার হেরে গেলে 90 মিনিটের ম্যাচ খেললেই পা সরতে চায় না।

সে যাই হোক ব্যাপার হল ফ্রান্স না ক্রোয়েশিয়া। শিল্পীর দেশ নাকি বামন হয়ে চাঁদে হাত দিতে চলা দেশ। কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ? সেটা দেখার অপেক্ষাতেই তাল ঠুকছে বিশ্ব। যোগ্যতাপর্বের খেলা ধরে গত তিন বছর ধরে এই একটা কাপ হাতে তোলার স্বপ্ন নিয়েই লড়েছে 210টি দেশ। সেখান থেকে 32টি দেশ যোগ্যতা পেয়েছে রাশিয়ায় খেলার। এই একটা কাপ জিতবেন বলেই মেসি হাতজোড়ো করে কেঁদেছেন, রোনাল্ডো মাথাগরম করে বিপক্ষকে লাথি মেরেছেন, নেইমার চোটে ক্ষতবিক্ষত হয়েও জান লড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মহাতারকারা চোখের জল ফেলে বিদায় নিয়েছেন। বিশ্বকাপ এবার ফ্রান্স কিংবা ক্রোয়েশিয়ায়। শিল্পী কিংবা সংগ্রামীর দেশে।      

আজ, রবিবার বিশ্বকাপের ফাইনাল
ফ্রান্স বনাম ক্রোয়েশিয়া
(রাত 8.30টা, মস্কো)
   

Comments
সম্পর্কিত খবর
১২০ মিলিয়ন ইউরোতে বার্সেলোনায় অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান
১২০ মিলিয়ন ইউরোতে বার্সেলোনায় অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান
পল পোগবার বিশ্বকাপ ফাইনালের বুট বিক্রি হল ৩০ হাজার ইউরোতে
পল পোগবার বিশ্বকাপ ফাইনালের বুট বিক্রি হল ৩০ হাজার ইউরোতে
২০২২ বিশ্বকাপ ৪৮ দলের কিনা সিদ্ধান্ত হবে জুন মাসে
২০২২ বিশ্বকাপ ৪৮ দলের কিনা সিদ্ধান্ত হবে জুন মাসে
দোহা মেনে নিলে হতে পারে ৪৮ দলের ফিফা বিশ্বকাপ
দোহা মেনে নিলে হতে পারে ৪৮ দলের ফিফা বিশ্বকাপ
জিরো দশা কাটিয়ে গোল করে ফরাসিদের দুরন্ত জয়ে জিরু-ই হিরো
জিরো দশা কাটিয়ে গোল করে ফরাসিদের দুরন্ত জয়ে জিরু-ই হিরো
Advertisement