বৃষ্টিতে মিশে গেল ক্রোটদের চোখের জল

Updated: 15 July 2018 23:59 IST

ভাগ্যিস বৃষ্টিটা এল, তা না হলে লড়াকু ক্রোটদের চোখের জলটা দেখা যেত।

FIFA World Cup 2018: Croatias Tears And Rain

পরপর তিনটে নক আউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে ফিরে এসে ফাইনালে উঠেছিলেন ক্রোটরা, তেমন কিছুর একটা প্রত্যাশা ছিল। 18 মিনিটে আত্মঘাতী গোলে খেয়ে যাওয়ার দশ মিনিট পর পেরিসিচের গোলে ফিরে এসেছিলেন ক্রোটরা। কিন্তু 38 মিনিটে গ্রিজম্যানের পেনাল্টি গোলটাই স্পিরিটটা ভেঙে দেয় ক্রোটদের। ম্যাচের 59 মিনিটে পোগবা, 65 মিনিটে এমবাপের গোলটা 4-1 করে দেয়। ফরাসি গোলকিপার লরিসের ভুলে ক্রোটরা দ্বিতীয় গোলটা করার পর একটা আশা জেগেছিল। তবে শেষ অবধি 4-2 জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল ফ্রান্স। ম্যাচ হারের পর হতাশ ক্রোট কোচ দালিচ মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। তবে কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলে নিয়ে ফুটবলারদের পাশে ছুটে যান। তখন লুঝনিকি স্টেডিয়ামে অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ভাগ্যিস বৃষ্টিটা এল, তা না হলে লড়াকু ক্রোটদের চোখের জলটা দেখা যেত। ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্ডা গ্রবার কিটারোভিচও বেশ হতাশ হয়ে পড়েন।      

ফাইনালে হারলেও গোল্ডেন বল জিতলেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদরিচ। ঠিক আগেরবার ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের পর যেমন মেসি জিতেছিলেন গোল্ডেন বল। মোট 6টা গোল করে গোল্ডন বুট জিতলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন। টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ প্রতিভার পুরস্কার পেলে ফ্রান্সের 19 বছরের এমবাপে। জিদুর পর গ্রিজু। 1998-এর পর 2018। ফ্রান্সকে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ এনে দিলেন অ্যান্তেনিও গ্রিজম্যান। ফাইনালে দারুণ খেলে ম্যাচের সেরা পুরস্কার পেলেন গ্রিজম্যান। দু বছর আগে নিজেদের দেশের মাটিতে ইউরো কাপের ফাইনালে হারের পর কেঁদেছিলেন গ্রিজু। আজও কাঁদলেন, তবে খুশিতে। নিজে পেনাল্টি থেকে গোল করলেন, দলের চালিকাশক্তি হয়ে চষে বেড়ালেন গোটা মাঠ।

অন্যদিকে, মস্কোর মাঠে পেলে ফিরলেন এমবাপে হয়ে। টুইটারে এমনই এক পোস্ট খুব শেয়ার হচ্ছে। 1958 বিশ্বকাপের ফাইনালে পেলে 17 বছর 249 দিনে গোল করেছিলেন। আর আজ ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে করলেন 19 বছর 207 দিন বয়সে। টিনেজার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করে পেলেকে ছুঁলেন এমবাপে। যদিও বিশ্বকাপের ফাইনালে কনিষ্ঠতম ফুটবলার হিসেবে গোল করার রেকর্ডটা পেলের দখলেই থাকল। যে বছর ফ্রান্স প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল, সেই বছরই জন্মেছিলেন এমবাপে। জিদানরা বিশ্বকাপ জিতেছিলেন জুলাইয়ে, আর এমবাপে জন্মেছিলেন ডিসেম্বরে। এমবাপে পেয়ে গেলেন মিনি পেলের স্বীকৃতি। বিশ্বকাপের গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে পেরুর বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন এমবাপে। বিশ্বকাপে টিনেজার হিসেবে গোল করে সেদিনই স্পর্শ করেছিলেন পেলেকে। এরপর এমবাপে মেসিদের বিরুদ্ধে নক আউটে জোড়া গোল করে ফের পেলের রেকর্ড স্পর্শ করেনন। খোদ পেলে তাঁকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান। আর বিশ্বকাপে মোট চারটি গোল করে এমবাপে সেরা প্রতিভাবান ফুটবলারের পুরস্কার। 1958 বিশ্বকাপে ট্রফি হাতে ফিট যেভাবে লাফিয়েছিলেন পেলেন, এমবাপের সেলিব্রেশনেও তেমন ছবিই ধরা পড়ল। 

Comments
সম্পর্কিত খবর
পল পোগবার বিশ্বকাপ ফাইনালের বুট বিক্রি হল ৩০ হাজার ইউরোতে
পল পোগবার বিশ্বকাপ ফাইনালের বুট বিক্রি হল ৩০ হাজার ইউরোতে
১০ বছর পর ব্যালন ডি’ওর-এ লেখা হল অন্য নাম
১০ বছর পর ব্যালন ডি’ওর-এ লেখা হল অন্য নাম
10 বছর পর মেসি-রোনাল্ডোর বাইরে কেউ জিতলেন ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার
10 বছর পর মেসি-রোনাল্ডোর বাইরে কেউ জিতলেন ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার
বিশ্বকাপের রানার্স ক্রোয়েশিয়াকে আধ ডজন গোলে হারাল স্পেন
বিশ্বকাপের রানার্স ক্রোয়েশিয়াকে আধ ডজন গোলে হারাল স্পেন
11 বছর পর ফিফার বর্ষসেরা তালিকায় নেই মেসি
11 বছর পর ফিফার বর্ষসেরা তালিকায় নেই মেসি
Advertisement