ইস্টবেঙ্গলের ১০০ বছরে ফুটবলের উৎসব, মিলে গেল রাজনীতি থেকে ক্রিকেট

Updated: 01 August 2019 21:58 IST

ইস্টবেঙ্গলের মঞ্চ থেকে ভারতের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে গেলেন মোহনবাগান কর্তা দেবাশিস দত্ত।  ফুটবল হয়তো এ ভাবেই মিলিয়ে দিতে পারে সব কিছু।

100 Years Celebration Of East Bengal Club
ইস্টবেঙ্গলে ১০০ বছরের উৎসবে হাজির ক্রিকেট থেকে রাজনীতি জগতের মানুষ © নিজস্ব চিতের

কলকাতা:

১০০ বছরে পা দিল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। আর সেখানে মিলে গেল ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান থেকে ফুটবল-ক্রিকেট। মিলে গেল ক্রীড়া জগতের উত্থান-পতনের ইতিহাস। প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে কপিল দেব, ভাইচুং ভুটিয়া থেকে সুনীল ছেত্রী। আই লিগ থেকে আশিয়ান। ইতিহাস, বর্তমান, ভবিষ্যতের স্বপ্ন, সব মিলে গেল নেতাজি ইন্ডোরের মঞ্চ থেকে গ্যালারিতে। আর সেই মঞ্চ থেকে ভারতের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে গেলেন মোহনবাগান কর্তা দেবাশিস দত্ত।  ফুটবল হয়তো এ ভাবেই মিলিয়ে দিতে পারে সব কিছু। যেখানে কোনও ভাষাই বাধা হয় না। যেখানে শুধু কথা বলে ফুটবল।

মঞ্চ আলো করে বসেছিলেন, সেরা কোচ প্রদীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। সবার প্রিয় পিকে। ছিলেন সুভাষ ভৌমিক, শ্যাম থামা, মহম্মদ হাবিব, ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়, সুকুমার সমাজপতি, ভাইচুং ভুটিয়া, সুনীল ছেত্রীসহ প্রাক্তন ও বর্তমান ফুটবলাররা। তার বাইরে যাঁরা ছিলেন তাঁরা হলেন, কপিল দেব, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। অল্প সময়ের জন্য ইস্টবেঙ্গলের মঞ্চ আলো করে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্টবেঙ্গলকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ঘোষণা করে দিলেন সরকারের তরফে। তাঁর গলায়ও শোনা গেল ‘‘জয় ইস্টবেঙ্গল''।

শতবর্ষ পূর্তি ইস্টবেঙ্গলের, লাল-হলুদকে শুভেচ্ছা মুখ্যমন্ত্রীর

ইস্টবেঙ্গলের মঞ্চ থেকে বাগান কর্তা দেবাশিস দত্তের বার্তা, ‘‘ইস্টবেঙ্গল আছে বলে মোহনবাগান আছে, মোহনবাগান আছে বলে ইস্টবেঙ্গল আছে। ভারতের ফুটবলকে আমরাই এগিয়ে নিয়ে যাব। ১০০ বছর নয় দীর্ঘ বছর বাঁচুক ইস্টবেঙ্গল ক্লাব।'' তাঁর হাতেও সংবর্ধনা তুলে দেওয়া হয় ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে। তুলে দেওয়া হয় পালতোলা নৌকোর মেমেন্টো। মঞ্চে দেবাশিস দত্তকে জরিয়ে ধরেন ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার। নিন্দুকেরা বলবেন এ জোট ফেডারেশনের বিরুদ্ধে একাট্টা হওয়ার। কিন্তু ফুটবলের পক্ষে সব সম্ভব। সে লড়াই হোক বা বন্ধুত্ব, সবটাই ফুটবলের জন্য।

পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়কে মঞ্চে বসিয়ে তাঁকে ঘিরে স্মৃতি রোমন্থন করে গেলেন তাঁর চার ছাত্র সুভাষ ভৌমিক, সুরজিৎ সেনগুপ্ত, মহম্মদ হাবিব ও  শ্যাম থাপা। সে গল্প, সত্যিই গল্পের মতো। যা শুনলে রোমাঞ্চ তৈরি হয় আজও। জ্যোতিষচন্দ্র গুহ, নৃপেন দাস ও দীপক দাস (পল্টু দাস)-এর পরিবারের হাতে সংবর্ধনা তুলে দিল ক্লাব।

যার মধ্যে শোনা গেল সমরেশ চৌধুরীর গলায় সামান্য অভিমানও। সঞ্চালক তাঁদের নাম না বলায়। তিনি মনে করিয়ে দিলেন, সুধীর কর্মকার ও তিনি পর পর ছ'বছর ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে ছিলেন। যেটা কেউ ছিলেন না।

ইস্টবেঙ্গল নিয়ে টুইট করে বিতর্কে তথাগত রায়, সামাল দিতে নতুন টুইট

সঞ্চালকের প্রশ্ন উড়ে গেল কপিল দেবের কাছে, ‘‘ইস্টবেঙ্গলের কোচ হতে পারবেন ইস্টবেঙ্গলের একটি ম্যাচে?'' কপিলের জবাব, ‘‘আমার সেই যোগ্যতা নেই। তবে যে যেই খেলায় রয়েছে সেটাতেই সেরাটা দেওয়া উচিৎ। আসলে প্লেয়ার নয় পার্থক্যটা গড়ে দেয় সমর্থক।'' গ্যালারি ফেঁটে পড়ল হাততালিতে। কপিল জুড়ে দিলেন, ‘‘কলকাতার সমর্থকরা প্লেয়ারদের থেকেও পাগল। কলকাতা ক্রাউড আমাদের থেকেও পাগল। তাই এখানে এসে সব সময় মজা পাই। সে আমি মাঝ রাতে আসি বা ভোরে সমর্থকরা অপেক্ষায় থাকে। সমর্থক ছাড়া কেউ বড় নয়। এই সমর্থকদের জন্য আমরা খেলি।''

মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ভাইচুংয়ের গোল ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে, কেমন অনুভূতি? ভাইচুংয়ের জবাব, ‘‘মরসুমের শুরু থেকেই মুখিয়ে থাকতাম কখন প্রথম ডার্বি আসবে? সেই আনন্দ আর কিছুর থেকে বেশি নয়। আমি ইস্টবেঙ্গল ফ্যানদের অনেক ধন্যবাদ দিতে চাই। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব আমাকে জন্ম দিয়েছে। আমাকে ভাইচুং ভুটিয়া বানিয়েছে। আমি সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। ওদের সমর্থন আমাকে এখানে নিয়ে গিয়েছে। ১৬ বছর বয়সে এসেছিলাম।''

ইস্টবেঙ্গলের প্রতিষ্ঠা দিবসে কপিলকে না আসার আর্জি কেন জানাচ্ছেন ফ্যানরা?

সুনীল ছেত্রীর কাছে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলা? বলেন, ‘‘আমি এখন ব্যাঙ্গালোর এফসির হয়ে খেলি। ড্রেসিংরুমে প্লেয়াররা জানতে চায়, ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের হয়ে যদি তারা খেলে তা হলে কী হবে। আমি সব সময় বলি আসলে খেলতে হবে ক্রাউডের জন্য। এটাই ইস্টবেঙ্গলের সমর্থন।''

ইস্টবেঙ্গলের সংবর্ধনায় ছিলেন সাংবাদিক থেকে রেফারিও।

শেষ বেলায় ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষে ফুটবলারদের হয়ে বক্তব্য রেখে গেলেন এক সময় সাত নম্বর জার্সি পরে রাইট উইং দিয়ে ছুটে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চুরমার করে দেওয়া সুকুমার সমাজপতি। বিক্রম ঘোষের তবলার তালে শেষ হল ১০০ বছরের এই দিনের উৎসব, যা চলবে বছরভর।

মাঝে মঞ্চের পিছনের জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে উঠল‌ মজিস বিসকারের মুখ। যেখানে তিনি বলছেন, ‘‘আমি ভারতে আসছি খুব দ্রুত।'' জানা গেল ১৩ অগস্ট ইস্টবেঙ্গল ডে-র অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেবেন। এই প্রজন্ম দেখবে সেই ইরানিয়ানকে যিনি এক সময় দাঁপিয়ে বেরিয়েছিলেন ভারতের ফুটবলে।

Comments
হাইলাইট
  • শুরু হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের ১০০ বছরের উৎসব
  • ইস্টবেঙ্গলের মঞ্চে এদিন উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
  • ইস্টবেঙ্গলের মঞ্চ থেকে একসঙ্গে চলার বার্তা দিলেন দেবাশিস দত্ত
সম্পর্কিত খবর
টটেনহ্যাম হটস্পার তারকার একক গোল দেখে সমর্থকদের প্রশ্ন, মেসি কে?
টটেনহ্যাম হটস্পার তারকার একক গোল দেখে সমর্থকদের প্রশ্ন, মেসি কে?
ISL: দুরন্ত জয়ে শীর্ষে এটিকে, জেনে নিন বাকিরা কে কোন অবস্থানে
ISL: দুরন্ত জয়ে শীর্ষে এটিকে, জেনে নিন বাকিরা কে কোন অবস্থানে
নেইমার ও এমবাপের জোড়া ঝড়ে দুরন্ত জয় এসপিজির
নেইমার ও এমবাপের জোড়া ঝড়ে দুরন্ত জয় এসপিজির
Watch Video: হিজাব পরা ফুটবলারের শটে অবাক গোল! ফিফা বলল ‘বছরের সেরা গোল’
Watch Video: হিজাব পরা ফুটবলারের শটে অবাক গোল! ফিফা বলল ‘বছরের সেরা গোল’
ষষ্ঠ বার ব্যালন ডি’অর জয়ী Lionel Messi, খুদে পুত্রর প্রতিক্রিয়া ভাইরাল
ষষ্ঠ বার ব্যালন ডি’অর জয়ী Lionel Messi, খুদে পুত্রর প্রতিক্রিয়া ভাইরাল
Advertisement