ইতিহাসে সেরা পাঁচটি অ্যাসেজ সিরিজ

Updated: 31 July 2019 17:39 IST

অ্যাসেজের ইতিহাসে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়াই কিন্তু ২০০১ থেকে ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে কখনও টেস্ট সিরিজ হারেনি ইংল্যান্ড।

History Of Five Memorable Ashes Series
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এ বারের অ্যাসেজ © এএফপি

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে যাবে এ বারের অ্যাসেজ (The Ashes 2019)। হোম টিমের সামনে সাফল্য ধরে রাখার লক্ষ্য। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার (England Vs Australia) মধ্যে অ্যাসেজ সিরিজের প্রথম দিনকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের নতুন উদ্যোগ ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (World Test Championship) শুরু হিসেবেও ধরা হচ্ছে। বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটে অ্যাসেজের ঐতিহ্য আলাদাই। এ বার সেই ঐতিহ্যশালী সিরিজকে দিয়েই শুরু হয়ে যাচ্ছে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। অ্যাসেজে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে থাকলেও ২০০১ থেকে ঘরের মাটিতে চির প্রতিদ্বন্দ্বিদের বিরুদ্ধে কোনও টেস্ট সিরিজ হারেনি ইংল্যান্ড। 

অ্যাসেজ শুরুর আগে এএফপি স্পোর্টস ফিরে দেখল সেরা পাঁচটি মনে রাখার মতো সিরিজ:

২০০৫: ইংল্যান্ডের রোমাঞ্চকর অ্যাসেজ জয়

২০০৫-এর অ্যাসেজ ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা সিরিজ হিসেবেই গন্য হয়। এবং সেখানে গত ১৯ বছরে প্রথম অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে জিতে নেয় ইংল্যান্ড। সেবার লর্ডসে প্রথম টেস্ট ২৩৯ রানে জিতে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু এজবাস্টনে দ্বিতীয় টেস্টের সকালে অনুশীলন করার সময় অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার গ্লেন ম্যাকগ্রা-র চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়াটাই সিরিজের মোর ঘুরিয়ে দিয়েছিল। 

ইংল্যান্ডের অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ ব্যাটে বলে বাজিমাত করেছিলেন, অস্ট্রেলিয়া ১৭৫-৮ থেকে ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য এসে দাঁড়ায় ২৮২। হোম টিমের জয় প্রায় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া লড়াই শুরু করে বল হাতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড মাত্র দুই রানে ম্যাচ জিতে নেয়। 

তৃতীয় টেস্ট ড্র হয়ে যায়। এবং ট্রেন্ট ব্রিজে চতুর্থ টেস্ট ইংল্যান্ড চার উইকেটে জিতে নেয়। ২-১-এ এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। একটা ড্র-ই সিরিজ জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল ইংল্যান্ডের। ওভালে শেষ টেস্ট রীতিমতো চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। টপ অর্ডার ধরাশায়ী হওয়ার পর কেভিন পিটারসনের দুরন্ত ১৫৮ রানের ইনিংস ও জাইলসের হাফ সেঞ্চুরির সৌজন্যে বেঁচে যায় ইংল্যান্ড।

১৯৮১: বথামের অ্যাসেজ

এই বছরটা ইয়ান বথামের নামে লেখা রয়েছে। তিনি একা হাতেই বাজিমাত করেছিলেন সেবার। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবেই সিরিজ শুরু করেছিলেন তিনি কিন্তু নটিংহ্যামে প্রথম টেস্টে হার ও লর্ডসে ড্রয়ের পর বথাম অধিনায়কত্বের পদ থেকে সরে দাঁড়া‌ন।

ইংল্যান্ডের ভাগ্য তাতেও ফেরেনি। হেডিংলেতে তৃতীয় টেস্টে ফলো-অনের মুখে পড়তে হয় তাদের। সেখান থেকে ইংল্যান্ডকে উদ্ধার করেন বথাম। ১৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে তিনি। অস্ট্রেলিয়ার সামনে মাত্র ১৩০ রানের টার্গেট দিতে পারে ইংল্যান্ড। কিন্তু বল হাতে বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন বব উইলিস। ৪৩ রান দিয়ে আট উইকেট তুলে নেন তিনি। ১৮ রানে তৃতীয় টেস্ট জিতে নেয় ইংল্যান্ড। চতুর্থ টেস্টও ইংল্যান্ড ২৯ রানে জিতে নেয় ইংল্যান্ড।

পঞ্চম টেস্টে আবার জ্বলে ওঠে বথামের ব্যাট। তাঁর ১১৮ রানের ইনিংসের সৌজন্য ইংল্যান্ড ১০৩ রানে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যাচের সঙ্গে সঙ্গে সিরিজও জিতে নেয়।  

১৯৭৪/৫: লিলি ও থমসনের রানের ঝড়

পিঠের চোট সারিয়ে ফিরেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ডেনিস লিলি। ফাস্ট বোলার জেফ থমসন শেষ টেস্টে ১১০ রান দিয়ে কোনও উইকেট না পেয়ে খালি হাতেই অ্যাসেজে খেলতে নেমেছিলেন। কিন্তু এই দু'জনই যে বিধ্বংসী হয়ে উঠবেন তা কেন জানত। প্রথম চারটি টেস্ট ও পঞ্চম টেস্টের অর্ধেক খেলে থমসন ৩৩টি উইকেট নেন। অ্যাডিলেড টেস্টের বিশ্রামের দিনে টেনিস খেলতে গিয়ে হাতে চোট পান তিনি। 

অস্ট্রেলিয়া ৪-১এ সিরিজ জিতে নেয়। ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইক ডেনিস একটা সময় নিজে সরে দাঁড়ান। ইংল্যান্ড শুধু শেষ এস্ট জিততেই সমর্থ হয়। যে ম্যাচে খেলতে পারেননি থমসন। এবং লিলি দ্রুত আউট হয়ে যান।

১৯৪৮: অপরাজিত অস্ট্রেলিয়া

ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বে সে বার অ্যাসেজ খেলতে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। যে সিরিজ অপরাজিত থেকেই জিতে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ৪-০তে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল।

সেরা দল হিসেবে ততক্ষণে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। চতুর্থ টেস্টে হেডিংলেতে শেষ দিন ৪০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। যদিও মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে সেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। আর্থার মরিস ১৮২ রান করেন। ডন ব্র্যাজম্যান ১৭৩ রান করে অপাজিত থাকেন। 

তবে এই সিরিজকে মনে রাখা হয় ব্র্যাডম্যানের শেষ টেস্টের জন্য। যা তিনি খেলেছিলেন ওভালে। ১০০ গড়ের জন্য তাঁর দরকার ছিল আর মাত্র চার রান। কিন্তু তিনি সেই ম্যাচে রানের খাতা না খুলেই আউট হয়ে যান। লেগ-স্পিনার এরিক হলিসের বলে আউট হয়ে ৯৯.৯৪ গড়েই শেষ করেন তিনি।

১৯৩২/৩৩: বডি লাইন

এটা ছিল সব থেকে বিতর্কীত অ্যাসেজ। তবে ব্র্যাডম্যানের ব্যাট থেকে সেই সিরিজে রান এলেও জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ৪-১-এ এই অ্যাসেজ জিতে নিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু এই সিরিজ বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড অধিনায়ক ডগলাস জার্দিনের নেতৃত্বে বিখ্যাত বডিলাইন বোলিংয়ের জন্য। এই সিরিজে ব্র্যাডম্যানের গড় ছিল ৫৬.৫৭।

দ্বিতীয় ম্যাচটিই এই সিরিজে শুধু জিততে পেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন ব্র্যাডম্যান। কিন্তু বাকি সব ম্যাচেই হারের মুখ দেখতে হয় গোটা দলকে। 

Comments
হাইলাইট
  • বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে এ বারের অ্যাসেজ
  • ইংল্যান্ডের সামনে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয় ধরে রাখার লক্ষ্য
  • ২০০১ থেকে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ হারেনি ইংল্যান্ড
সম্পর্কিত খবর
Ashes 2019: চোট নিয়েই পঞ্চম টেস্ট খেলেছিলেন টিম পাইন ও পিটার সিডল
Ashes 2019: চোট নিয়েই পঞ্চম টেস্ট খেলেছিলেন টিম পাইন ও পিটার সিডল
Ashes 2019: প্রত্যাবর্তনের টেস্ট স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকল স্টিভ স্মিথের জন্য
Ashes 2019: প্রত্যাবর্তনের টেস্ট স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকল স্টিভ স্মিথের জন্য
ICC Test Rankings: শীর্ষস্থান ধরে রাখলেন স্টিভ স্মিথ ও প্যাট কামিন্স
ICC Test Rankings: শীর্ষস্থান ধরে রাখলেন স্টিভ স্মিথ ও প্যাট কামিন্স
জনি বেয়ারস্টোর মিথ্যে ফিল্ডিংয়ে চমকে গেলেন Steve Smith
জনি বেয়ারস্টোর মিথ্যে ফিল্ডিংয়ে চমকে গেলেন Steve Smith
স্টিভ স্মিথকে মানুষ সব সময় মনে রাখবে ‘প্রতারক’ হিসেবেই বললেন প্রাক্তন ক্রিকেটার
স্টিভ স্মিথকে মানুষ সব সময় মনে রাখবে ‘প্রতারক’ হিসেবেই বললেন প্রাক্তন ক্রিকেটার
Advertisement